প্রজন্মের মননে গেরিলা তৎপরতার কলাকৌশল

বই না বলে গেরিলা অপারেশনের ম্যানুয়াল বলাই বরং ভালো— অন্তত আমার বিবেচনায়। তবে এই প্রচেষ্টা সম্মুখসমরে নয়, প্রজন্মের বিভ্রান্তিকর মগজে আর প্রায় ক্ষয়ে-যাওয়া মননের অলিতে-গলিতে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস খুঁজতে গেলে আমরা বুঝি, গত পঞ্চাশ বছরে আমাদের পায়ের তলার মাটি কেমন আলগা হয়ে গেছে। নরম পলিমাটির বদলে সেখানে ফাঁদ পেতেছে বিভ্রান্তির চোরাবালি। আশাবাদী অগ্রজেরা…

বিপন্নতাকে কৃষ্ণচূড়ায় পাল্টে ফেলার দশক

বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে গত শতাব্দীর ষাটের দশক এক অবিস্মরণীয় গণজাগরণের দশক। মূলত এই দশকের আলোতেই রচিত হয়েছিল বিংশ শতাব্দীর অলোকসামান্য ঘটনা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। পৃথিবীব্যাপী মুক্তিকামী মানুষের কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সর্বকালের এক অখণ্ড অনুপ্রেরণা। বাংলার মানুষের মুক্তিসংগ্রামের যে বীজ সাংস্কৃতিক ভূমিতে রোপিত হয়েছিল বিংশ শতাব্দীর প্রথম পর্বে, তার রাজনৈতিক বিকাশ প্রাপ্তির সময় হিসেবে চিহ্নিত…

সবক্ষেত্রেই আইনের এমন তড়িৎ প্রয়োগ চাই

বিজয়া দশমীর দিনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ গণমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছে। ঢাকা- ০৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের ছেলে ও ৩০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সহযোগীসহ তাকে গ্রেফতার করে মাদক ও অবৈধভাবে ওয়াকিটকি রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোরও যথাযথ তদন্ত ও…

অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, ৫৭ ধারা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হকের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেছেন তাঁর সহকর্মী, একই বিভাগের অধ্যাপক আবুল মনসুর আহমেদ। বিভাগের প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের জের ধরে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে—গণমাধ্যমসূত্রে এই তথ্য আমরা জানতে পেরেছি। এর সংযুক্তি আরেকটি তথ্য হচ্ছে, মামলাটি দায়ের করার মাত্র তিনদিন আগেই তথ্যপ্রযুক্তি আইনের এই নিপীড়নমূলক ধারাটি…

অনার্য সংগীতগুরুদের প্রতি নিবেদন

আমার জন্ম আজিমপুর ম্যাটার্নিটিতে সুতরাং মৃত্যু যে ভেনিসে হবে না তা বলাই বাহুল্য। এক টুকরো নির্দোষ শৈশবের সুতোয় জীবনের ঘুড়ি আটকে রেখে জীবন পার করার এই বোকামি তাই আমাকে অন্তত মানায়। আমার বা বড়ো করে বললে আমাদের যখন শৈশব তখনও শহরের আকাশ জুড়ে সুউচ্চ দালানের মিছিলগুলো অতো বড়ো ছিলো না। টুকটাক দু একটা চোখে পড়তো;…

পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন: মনোজগতে আধিপত্যবাদের রাজনীতি

প্রসঙ্গ-কথা বাঙলাদেশ একটি স্বাধীন জাতিরাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে মুক্তিসংগ্রামের মহাবাদলের মধ্য দিয়ে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামল থেকে উনিশশো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ—এ দীর্ঘ সংগ্রামমুখর পথ পরিক্রমায় বাঙলাদেশের সৃষ্টি। এ লড়াই একদিকে যেমন ছিলো শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জনতার সশস্ত্র অভ্যুত্থান, তেমনি ছিলো শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেয়া দাস-মনোবৃত্তির বিরুদ্ধে স্বকীয় সত্তার উদ্বোধন। এই দুই ধারার লড়াই সমান্তরালে চলেছে, কখনও একটি অপরটিকে প্রভাবিত করেছে।…

হতে পারে এটিও একটি বিতার্কিক পাঠ

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিতর্কের মহাবাদলের সামনে কী তপোক্লিষ্টই না দাঁড়িয়ে থেকেছি আমি। বিতর্ক তখন আমার কাছে এক মুনস্ট্রাক অরণ্য—তাকে দেয়া যায় না কিছুই, কেবল নিয়ে আসা যায় ঢের। আমার বলশেভিক চোখে বিতর্কের চক্ষুদান পর্ব সমাপ্ত হবার পর আমি জেনে গেছি শতাব্দীর পর শতাব্দী কিছু সব্বনেশে খশড়া জমা হয়েছে মানব জাতির ভল্টে। অতএব বিতর্ক থেকে বেরোনোর প্রশ্নই…

ওগো ঢাকা: সুন্দরীতমা

‘চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়’— কেমন ছিলো এই ঢাকা যখন রুদ্র লিখছেন আত্মরতির ঊর্ণায় আঁকা কবিতার এই ছাড়পত্রহীন খশড়াটি? কতোই বা বয়স ছিলো এই শহরের? পিচ ঢালা রাস্তা আর ল্যাম্পপোস্টের শাদা জ্বলজ্বলে বাতির শরীর ছুঁয়ে হেঁটে যাওয়া প্রতিটি মানুষ এই শহরকে চেনেন যার যার মতো। এসব চেনা জানার কোনো লিখিত সংস্করণ নেই। এইসব চোখে দেখা…

প্রদর্শনী নয়, আমি একটি বিদ্রোহ দেখেছিলাম

এক আশ্চর্য অগ্রহায়নের সন্ধ্যা তার সবটুকু বিষণ্নতাকে ছুটি দিয়ে একান্তই আমাদের হয়ে গিয়েছিলো। নগরীর জ্যাম ঠেলে গ্যালারি টোয়েন্টি ওয়ানে এসে আমরা দেখলাম জীবনের গায়ে রৌদ্র মাখাতে গেলে কার্যত পেরিয়ে আসতেই হয় স্যাঁতস্যাঁতে উঠোন এবং পুনর্বার তার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু কথাটা যতো সরল তার বাস্তবায়নের ইশতেহার ততোটা কঠিন। কেননা শেষ পর্যন্ত জীবনের সংজ্ঞা, বলা ভালো…

শ্রদ্ধেয় আনিসুজ্জামান স্যার: আমি প্রতিবাদ করছি

গত একুশে আগস্টে দৈনিক জনকণ্ঠের প্রথম পাতায় একটি চমৎকার আলাপচারিতার বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্যারের সঙ্গে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক সব্যসাচী বসু রায়ের আলাপচারিতাই ঢাকার কোন প্রত্যাশাই পূরণ করেনি দিল্লী শিরোনামে উঠে এসেছে পত্রিকাটির পাতায়। নিঃসন্দেহে একটি প্রাণবন্ত আলাপচারিতার ছবি স্পষ্ট ভেসে ওঠে প্রকাশিত সংবাদটির মাধ্যমে। জানা যায়, এই আলাপচারিতাটি প্রথমে প্রকাশিত…

এই লেখাটি আপনাদের ভালো লাগবে না

কারও ভালো লাগার দায় থেকে লেখাটি লিখছি না। ভালো যে লাগবে না, তা তো শিরোনামেই আমি উল্লেখ করেছি। বাঙলা নববর্ষ নিয়ে ভাবতে গেলে আমার মনে হয়, আমাদের নববর্ষ উদযাপনের ধারটি বদলে যেতে পারতো। বাঙালির ইতিহাস কেবল উদযাপনের নয়, বাঙালির ইতিহাস এক গভীর দার্শনিক চিন্তার ইতিহাস। বাঙালির সবটুকু মহিমান্বিত ধারায় এক অভূতপূর্ব চিন্তারেখা খেলা করে। সেই…

জেনোসাইডের নীরব সাক্ষী

আমার কী নাম? নামফলক দেখে হয়তো বলে দিতে পারবে অনেকেই। কেউ কেউ কপাল কুঁচকে বলবেন- পাথরের আবার নাম! জড় পদার্থের নামের কী দরকার? কিন্তু আমি কি কেবলই জড় পদার্থ? কেবলই কি এক অসাড় চলৎশক্তিহীন পাথর আমি? কেউ কী কখনো আমার পাশ দিয়ে যাবার সময় একবার ফিরে তাকিয়েছো? একবার ভেবে দেখেছো- আমি আসলে কথা কইতে জানি,…

মেসিময় দিনটি ছিল ওকাম্পোর কবিতার মতোই

এমনটাই যেনো হবার কথা ছিলো! হাজার হাজার মাইল দূরের দেশ আর্জেন্টিনা থেকে আসবেন মেসি। বাঙালি তাঁকে বরণ করে নেবে তার হাজার বছরের ঐতিহ্যগত আতিথেয়তায়। মেসি তাঁর অনবদ্য জাদুতে মুগ্ধ করবেন বাঙালিকে, সেইসাথে মুগ্ধ হবেন বাঙালির ফুটবল উন্মাদনা আর মেসির জন্যে তুলে রাখা ভালোবাসার আবির মেখে। মেসি কিংবা আজকের আর্জেন্টিনা বাঙালির এই অসামান্য আয়োজনে যারপরনাই মোহিত।…

ফিরে দেখা নিমতলী ট্র্যাজিডি

গত ৩ জুন পালিত হলো নিমতলী ট্র্যাজিডির এক বছর। ২০১০ সালে সংগঠিত এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নিঃশেষ হয়ে যায় অনেকগুলো প্রাণ, স্তব্ধ হয়ে যায় শত কণ্ঠস্বর; আর সেই সাথে ধুলিস্যাৎ হয় কতো কতো স্বপ্ন- তার কোনো হিসেব নেই। এক বছর পর নিমতলীতে সংগঠিত সেই ভয়াবহ অগ্নিকা–ের দিকে ফিরে তাকালে আজও আমরা আতঙ্কিত হই। মনে…

হঠাৎ এক আশ্চর্য বিকেল

লেখার কতোটুকু ফরমায়েশি আর কতোটুকু আয়েশি? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া ভার। তবে এর মাঝেও একটি সান্ত্বনা এই যে- মানুষ কিছু প্রশ্নের কোনো উত্তর প্রত্যাশা করে না। যেমন, ছোটোগল্প আসলে কতো ছোটো? কিংবা মনেরও কি মন আছে? তাই লেখা যেমনই হোক- তার উৎসমূলের হিসেব খুঁজতে যাওয়াটা বোধ হয় উচিত হবে না- কারণ এটি রবীন্দ্রনাথের লেখা…