সাইবার জিহাদ মোকাবেলায় বাঙলাদেশ

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত ওয়েবিনারের ধারণাপত্র বাঙলাদেশের রাজনীতিবিদ, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজ সকলেই আজ এই মর্মে একমত যে, ধর্মীয় উগ্রপন্থী সংগঠনগুলো গত কয়েক বছরে তাদের অপকর্মের পদ্ধতি পরিবর্তন করেছে। ধর্মকে ব্যবহার করে বাঙলাদেশের উগ্রবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীগুলো যে প্রকাশ্য সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলো, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কঠোর তৎপরতার কারণে তার অনেকটাই এখন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।…

হত্যার মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হোক

চলতি মাসেই বাংলাদেশের আদালত থেকে দুটো গুরুত্বপূর্ণ রায় আমরা পেয়েছি। জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এবং এর ঠিক ৫ দিন পর ১৬ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড মামলার রায় দিয়েছে আদালত। দুটো রায়ই ঘোষণা করেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক জনাব মজিবুর রহমান।…

গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারা

অনেক দিন ধরেই আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এই আইন কেবল যে চিন্তার প্রকাশের পথে প্রতিবন্ধক নয়, এর অপপ্রয়োগ হচ্ছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়ে গেছে যে, আইসিটি আইনের এই ৫৭ ধারা যতটা না অন্যায়-অবিচার রোধে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার চেয়েও বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যক্তিগত স্বার্থে। আইনের নিজস্ব রাস্তা আছে এবং তার ওপর ভিত্তি করেই আইন চলবে—এমন দাবি আইনজ্ঞরা সব-সময়ই করে থাকেন। কিন্তু…

বইমেলা খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন

অমর একুশে বইমেলা বাঙালির এক অলৌকিক পবিত্র আয়োজন। একুশের সূর্যমুখী চেতনাকে ধারণ করে বইমেলা আমাদের মাথা নত না করার এক দৃপ্ত প্রত্যয়। ফেব্রুয়ারি মাস এলেই আমরা উদ্বেল হই বইমেলার তরঙ্গে, আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে নতুন বইয়ের প্রতীক্ষা। সারা বছর এই একটি মেলার জন্য কেবল লেখক-প্রকাশকরাই নন; আগ্রহ নিয়ে বসে থাকেন সারাদেশের নানা প্রান্তের মানুষ। গণমাধ্যম…

টকের জ্বালায় দেশ ছাড়লাম, তেঁতুল তলায় বাস

লেখার শিরোনামটি আসলে আমাদের বর্তমান অবস্থারই একটি প্রবচনিক রূপ, সাম্প্রতিক বাঙলাদেশের চালচিত্র। ‘কোথায় দাঁড়িয়ে বাঙলাদেশ?’— এই প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের। মনে হচ্ছে, আমরা প্রত্যেকেই যেনো বাস করছি একটি দুঃস্বপ্নের মধ্যে, ভয়াল মেঘমালার নিচে আমাদের ত্রস্ত চলন। ২০১৫ সালের অর্ধেকও শেষ হয়নি, অথচ তিনজন ব্লগার ও লেখককে হত্যা করা হলো নৃশংসভাবে। ২৬…

শ্রদ্ধেয় আনিসুজ্জামান স্যার: আমি প্রতিবাদ করছি

গত একুশে আগস্টে দৈনিক জনকণ্ঠের প্রথম পাতায় একটি চমৎকার আলাপচারিতার বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্যারের সঙ্গে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক সব্যসাচী বসু রায়ের আলাপচারিতাই ঢাকার কোন প্রত্যাশাই পূরণ করেনি দিল্লী শিরোনামে উঠে এসেছে পত্রিকাটির পাতায়। নিঃসন্দেহে একটি প্রাণবন্ত আলাপচারিতার ছবি স্পষ্ট ভেসে ওঠে প্রকাশিত সংবাদটির মাধ্যমে। জানা যায়, এই আলাপচারিতাটি প্রথমে প্রকাশিত…

বিভ্রমটা কোথায়- দৃষ্টিতে, চিন্তায় না নৈতিকতায়?

এক সুসময় আর দুঃসময় হাত ধরাধরি করে হাঁটছে। খটকা লাগলো? মনে হলো, এটা কী করে হয়? হয়, কখনও কখনও হয়। যখন পুড়ে যায় সবকিছু, বিধ্বস্ত হয় সভ্যতার নিটোল ভিত্তি, তখন বৃষ্টির স্রোতেই তা সবুজ হয় আবার, গড়ে ওঠে মানুষের আবাস। তখন কেউ কেউ স্বস্তিবোধ করেন, আবার কেউ কেই আছেন, ভাবেন- এ আবার বানের লক্ষণ নয়…

উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ

জানি না, এখনও খবরটি জাতীয় গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে কি না। দেশে নানা বিতর্ক চলছে, এসবের ফাঁকে এই খবর চাপা পড়ে গেলেও আশ্চর্য হব না। তবে নাগরিক হিসেবে, একজন ব্লগার হিসেবে নিজের কাছে নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না। ঠিক যেমন পারিনি এর আগে, যখন মানবাধিকার লঙ্ঘন করে গ্রেফতার করা হয়েছিল চারজন ব্লগারকে। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে…

অতএব, রক্ষকই অবশেষে ভক্ষক

ঠিক আভিধানিক অর্থকে মাথায় রেখে এখানে ‘রক্ষক’ কিংবা ‘ভক্ষক’ শব্দ দুটি ব্যবহার করা হয়নি। ব্যবহার করা হয়েছে আস্থার মাপকাঠি বিবেচনা করে। বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিশেবে আমি কতোটা আস্থা রাখতে পারি আমার রাষ্ট্র কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর উপর? এ প্রশ্নটি খুঁজতে গিয়েই লেখাটির সূত্রপাত। চারপাশে ঘটে যাওয়া অনেকগুলো বিষয়ই হতে পারতো এ লেখার প্রভাবক, কিন্তু গত…