ফেইসবুক অ্যালগরিদম ও কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

গত দুই দশকেরও কম সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে যে সংখ্যক ব্যবহারকারী সক্রিয় হয়েছেন, ডিজিটাল দুনিয়ায় তা এক বিস্ময়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সব শ্রেণির মানুষকে কথা বলার বা মত প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে— এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। একই সঙ্গে তাদের নিজস্ব বিধি-বিধান আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যালগরিদম কোথাও না কোথাও মত প্রকাশের ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি…

বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো

চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধের হিসাব অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন। এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে কোনো একটি প্ল্যাটফর্মে ক্রমাগত সক্রিয় রাখার ইতিহাস মানব সভ্যতার ইতিহাসে আর নেই। হয়তো ডিজিটাল দুনিয়ায় ভবিষ্যতে এমন পরিসংখ্যান আরও তৈরি হবে। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত এ কথা নির্দি্বধায় বলা যায়, আজকের পৃথিবীতে এসব যোগাযোগমাধ্যম সামাজিক, রাজনৈতিক,…

প্রজন্মের মননে গেরিলা তৎপরতার কলাকৌশল

বই না বলে গেরিলা অপারেশনের ম্যানুয়াল বলাই বরং ভালো— অন্তত আমার বিবেচনায়। তবে এই প্রচেষ্টা সম্মুখসমরে নয়, প্রজন্মের বিভ্রান্তিকর মগজে আর প্রায় ক্ষয়ে-যাওয়া মননের অলিতে-গলিতে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস খুঁজতে গেলে আমরা বুঝি, গত পঞ্চাশ বছরে আমাদের পায়ের তলার মাটি কেমন আলগা হয়ে গেছে। নরম পলিমাটির বদলে সেখানে ফাঁদ পেতেছে বিভ্রান্তির চোরাবালি। আশাবাদী অগ্রজেরা…

এটা দর্শনের লড়াই

বর্তমান সময়ে সম্ভবত সর্বাধিক উচ্চারিত শব্দ-যুগল হলো ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, খেলাধূলা এমনকি বিনোদন জগতেও আজকাল এই শব্দ-যুগল ব্যবহৃত হয়। দুশ্যটি খুব চমৎকার! একদিকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’র নামে একের পর এক উৎসব, বক্তৃতা আর বিবৃতি চলছে; অন্যদিকে রামু, নাসিরনগর, বাঁশখালি, গোবিন্দগঞ্জ—একের পর এক সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ঘটছে। দেশের আদমশুমারী রিপোর্ট অনুযায়ী, ভিন্ন ধর্ম ও জাতিসত্তার মানুষ…

পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পাওনা

“বাংলাদেশের কাছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা (৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন পাকিস্তান রুপি) দাবি করতে যাচ্ছে পাকিস্তান”— শীর্ষক সংবাদটি পড়ার পর এ বিষয়ে কিছু খোঁজ-খবর করার চেষ্টা করি। চেষ্টার অংশ হিশেবেই আমার এক প্রবাসী বন্ধুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলি। পাকিস্তান ইস্যুতে ওর সঙ্গে কথা বলাটা ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে তাৎপর্যপূর্ণ কেননা, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ও প্রায়ই আমাদের…

বাঙলা নববর্ষ: ব্রাত্যজনের ভাবনা

নববর্ষ এলেই আমার মধ্যে এক প্রগাঢ় ভাবনার উদয় হয়। আমি ভাবতে শুরু করি- বাঙালির নববর্ষ আসলে বাঙালির চৌকাঠে কতোটা আপন হয়ে আসে। মানে, কতোটা তা উৎসবের, কতোটা তা উদযাপনের, আর কতোটাই বা তার চর্চার। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আমি যেটুকু বুঝি, তাতে সংস্কৃতি আমার কাছে একটি বড়ো ধারণা। একই সঙ্গে তার মধ্যে যে গভীর বাঙময়ী প্রত্যয়…

পঁচিশে মার্চ ১৯৭১

দৃষ্টিজুড়ে আলো থাকলেই অন্ধকার ঘুচায় না। আঁধারেরও একটা রঙ আছে, তারও একটা সত্তা আছে। ওইটুকু বাদ দিলে যে নিকষ ভয়ঙ্কর রাত্রির পর্দা নামে, তাতে ভয় ধরে; ভয়ার্ত মনের মধ্যে বাসা বাধে শব্দেরা; শব্দগুলোর কান্না পায়, চিৎকার করে কাঁদে, কেবল কাঁদে আর কাঁদে; ইতিহাসের পনেরো খণ্ডে শব্দগুলো আমার বুলেট হয়ে যায়। আমি তোমাদের বিস্তীর্ণ ব্যস্ত জীবনে…

জেনোসাইডের নীরব সাক্ষী

আমার কী নাম? নামফলক দেখে হয়তো বলে দিতে পারবে অনেকেই। কেউ কেউ কপাল কুঁচকে বলবেন- পাথরের আবার নাম! জড় পদার্থের নামের কী দরকার? কিন্তু আমি কি কেবলই জড় পদার্থ? কেবলই কি এক অসাড় চলৎশক্তিহীন পাথর আমি? কেউ কী কখনো আমার পাশ দিয়ে যাবার সময় একবার ফিরে তাকিয়েছো? একবার ভেবে দেখেছো- আমি আসলে কথা কইতে জানি,…

যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা….

এই লেখাটিকে নানাভাবে সাজানো যেতো। কারণ এই ‘নানাভাবের’ বিন্যাস লেখাটি দাবি করে। হতে পারতো- সাতচল্লিশ সালের দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত হওয়া দুটি রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ ক্যামিস্ট্রি সম্বলিত একটি বর্ণনা, এখানে থাকতে পারতো চৈতন্যলোকের সাথে সাক্ষাৎ মানবতাবাদের একটি যৌগিক কাঠামোর বিন্যাস এবং নিঃসন্দেহে, বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ যে একটি অসাধারণ অসাম্প্রদায়িক আখ্যানকেন্দ্রীক এক অনন্য মহাকাব্য- তার একটা সবিস্তারে বর্ণনা এখানে…

সেই মায়েদের মা দিবস

মা দিবস শেষ হলো। দিবস উদযাপন অত্যন্ত আনন্দঘন একটি বিষয়। বিভিন্ন দিবসের বিভিন্ন প্রতিপাদ্য- বাঙালি নানাভাবে সেসব দিবস উদযাপন করে থাকেন, গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার পরীক্ষার্থীরা এসব দিবসের প্রতিপাদ্য মুখস্থ করে রাখেন, দিবসকে কেন্দ্র করে হাল আমলের টি-শার্ট, পোস্টার, শুভেচ্ছা কার্ড আরও কতো কী! গণমাধ্যমগুলোতে বিশেষ দিবসের বিশেষ সংবাদ, বিশেষ অনুষ্ঠান। মানে সবকিছু মিলিয়ে উৎসবমুখর জাতির উৎসবের…

পঁচিশে মার্চ ১৯৭১: জেনোসাইডের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের মূলকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। তাই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ বা ‘বাঙালি এথনিক ক্লিনজিং’ শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে। ওইদিন সকালবেলা একটি সামরিক হেলিকপ্টারে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল জানজুয়া, মেজর জেনারেল মিঠঠা খান, মেজর জেনারেল নজর হোসেন শাহ এবং মেজর জেনারেল…

স্বাধীনতার ৩৫ বছর- প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির আলকেমি

স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস বাঙালি জাতির জীবনে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামল থেকে বাঙালি জাতির চেতনায় স্বাধীনতার যে বীজ উপ্ত হয়েছিলো তার মহীরুহ রূপান্তর ঘটে ১৯৭১ সালে, নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। অধিকার আদায়ের দৃপ্ত শপথে, দেশকে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার হিংস্র কবল থেকে রক্ষা করার জন্য; সেদিন ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তুলেছিলো বাঙালি; অস্ত্র…