আমাদের অন্ধত্বযাত্রার সূচকসমূহ

একসময় বিপ্লব ছিল জনগণের উৎসব; আমাদের কৈশোরে বিপ্লবের আরেক নাম ছিল মাধবীলতা। আজকের অধ্যাপক-অধ্যুষিত শিক্ষিত পৃথিবীতে বিপ্লবের চারণভূমি হলো ফেসবুক। লাইক-কমেন্ট-শেয়ারের আড়াল থেকে ফেসবুকে এখন বিপ্লব উঁকি দেয় পদ্মপলাশলোচনে। আমাদের অগ্রজ প্রজন্ম জীবনের সান্ত্বনা থেকে শান্তি—সবই খুঁজে পেয়েছিলেন রামমোহন থেকে রবীন্দ্রনাথে, শক্তি চট্টোপাধ্যায় থেকে শামসুর রাহমানে; জীবন জিজ্ঞাসাকে তাঁরা সমর্পন করেছিলেন বিজ্ঞান-সমর্থিত যুক্তিবাদে। হোসেন মিয়ার…

আকাশে আজও শ্রাবণের মেঘ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যার জন্যই কেবল হত্যাযজ্ঞটি সংঘটিত হয়নি; কার্যত এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আদর্শিক যাত্রাপথের মানচিত্রটাই বদলে ফেলা হয়েছিল। পঁচাত্তরের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা এসেছিল, কেবল ক্ষমতা দখলই তাদের উদ্দেশ্য ছিল—এটুকু বললে আসলে অর্ধেকটা বলা হয়। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ নামক…

আঙুল ফুলে ধর্মগাছ

প্রশ্নটি হচ্ছে— ধর্ম কার জন্য? একজন ব্যক্তির ধর্ম কী হবে, তা অনেকটাই জন্মসূত্রে কোনো দেশের নাগরিক হবার মতোন। যে ধর্মাবলম্বী পরিবারে যার জন্ম সাধারণত তিনি সে ধর্মেরই অনুসারী হয়ে থাকেন। আবার ধর্মাচরণের ক্ষেত্রে একেক পরিবার একেক ধরনের নীতি পালন করে। পরিবার থেকে শেখা সে প্রভাব ব্যক্তির ওপরও পড়ে। ফলে বোঝা যাচ্ছে ধর্ম সংক্রান্ত আমাদের প্রায়…

রাজনৈতিক দলের রাজনীতি

বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর পরিস্থিতি ও ভূমিকা সম্পর্কে একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ঢাকা পোস্টে। গত ২৬ আগস্ট থেকে ০৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত এই বিশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া থেকে তাদের ভাঙন ও বর্তমান ক্রিয়াকলাপের বিশদ তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে মূর্ত হয়েছে রাজনীতির মাঠে তাদের সক্রিয়তার উপলক্ষ বা নিষ্ক্রিয়তার কারণ।…

রাজনৈতিক পাপের উৎস সন্ধানে

স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পাপটি ছিল ১৯৭৫ সালের পনেরোই আগস্ট। তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক কুনাট্যের সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে—তার ঠিক ৭৯ দিন পর, পঁচাত্তরের ৩ নভেম্বর—জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে এই কুনাট্যের প্রথম অঙ্কের সমাপ্তি ঘটে। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চরিত্রের যে স্খলন…

হত্যার মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হোক

চলতি মাসেই বাংলাদেশের আদালত থেকে দুটো গুরুত্বপূর্ণ রায় আমরা পেয়েছি। জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এবং এর ঠিক ৫ দিন পর ১৬ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড মামলার রায় দিয়েছে আদালত। দুটো রায়ই ঘোষণা করেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক জনাব মজিবুর রহমান।…

হেফাজতে ইসলাম: জামায়াতের আরেক রাজনীতি

বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হিসেবে হেফাজতে ইসলামের আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি। সংগঠনটি যে সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন সারা বাংলাদেশের চোখ ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দিকে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট ১৯৭৩ এর পরিমার্জন, নানা মাত্রিক সংশোধন ও যুগোপযোগী করার কাজ চলছিল তখন। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ২০১০…

তেসরা নভেম্বর ও তিনটি রাজনৈতিক সমীকরণ

১৯৭৫ সালের পনেরোই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ৮০ দিন পরই কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় চারনেতাকে। ঘাতকচক্র, প্রেক্ষাপট, হত্যার ধরণ ও উদ্দেশ্য— সবই এক। পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট থেকে তেসরা নভেম্বর অব্দি সময়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ভয়াবহ সময়। অন্যায়, অবিচার, খুনী ও ষড়যন্ত্রকারীদের দম্ভ— সব মিলিয়ে ওই ৮০ দিন…

ধর্ষণের বিচার ও ধর্ষণ-মনস্তত্ত্বের চিকিৎসা

একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশে। রাজপথ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মূলধারার গণমাধ্যমসহ সবক্ষেত্রে প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন মানুষ। করোনা মহামারীর সময়ে প্রতিটি সচেতন মানুষ যার যার জায়গা থেকে প্রতিবাদ করছেন। ইতোমধ্যে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে অপরাধীদের। এই পর্যন্ত চিত্রটি আমাদের পরিচিত। ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি বা কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের পরও একইভাবে সোচ্চার হয়েছিলেন…

‘কেনো’ এবং ‘কেনো নয়’

আমরা সম্ভবত বিনির্মানবাদের জগতে বসবাস করি। অভিমতটি ব্যক্তিগত বলেই এ সম্বন্ধে আমার যুক্তি হলো— সভ্যতার এমন একটি বিন্দুতে আমরা অবস্থান করছি, যেখানে দাঁড়িয়ে আমাদের চিন্তার সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী কোনো ভবিষ্যত আমাদের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। এর মানে এই নয় যে— একেবারেই ভিন্ন একটি ভবিষ্যত আমরা দেখতে পাই না বা দেখা হবে না তবে আপাত দৃষ্টিতে আমরা পূর্ববর্তী…

নাজিমুদ্দীন রোডে ‘বাকস্বাধীনতা’ ও দেয়ালে পা ঝুলিয়ে বসা ‘ধর্মানুভূতি’

কেবল কয়েকটি মাত্র ইন্দ্রিয় দিয়ে মানুষকে বিচার করলে, সেটি ভুল হবে। এবং আরও ভুল হবে যদি কখনো, কোনো একদিন, এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় যে, মানুষের ইন্দ্রিয়গুলো ‘সীমাবদ্ধ’ কিংবা ‘সীমাবদ্ধ ইন্দ্রিয়শক্তি’ নিয়েই মানুষ পৃথিবীর মহত্বম কর্মকাণ্ডগুলো সম্পন্ন করেছে। বস্তুত ‘অসীম’ এবং ‘সুগভীর’ কয়েকটি প্রত্যয়ের কলোচ্ছ্বাসে মানুষ নিজেকে গড়ে তোলে, নিজেকে তৈরি করে পৃথিবীর জন্যে, সভ্যতার জন্যে।…