উদযাপনের পরাকাষ্ঠা, অনুভূতির দৃশ্যায়ন

বাংলার মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস পাঠে আমরা যতটা নিবিড় হই, ততই আবিষ্কার করি— কী অসামান্যতায় তা বিস্তৃত হয়েছিল পৃথিবীর মানবিক ইতিহাসের মানচিত্রে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বর জেনোসাইডের বিরুদ্ধে অপারেশন জ্যাকপট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর সমুদ্রবন্দরে পাকিস্তানি জাহাজ অবরোধ, বাংলার মানুষের জন্য বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের বীরত্ব থেকে ফরাসি নাগরিক জ্যঁ ক্যুয়ের ভালোবাসা কিংবা স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে ম্যাডিসন স্কয়ার— বাংলার মুক্তিসংগ্রামের আলোকোজ্জ্বল…

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস কীভাবে ছড়ায়?

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ঘটনাগুলো ঘটার পর নানা মাত্রিক আলোচনা হয়— কী সরকার, কী জনগণ বা বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংগঠন— আমরা প্রত্যেকেই এই সন্ত্রাস দমনে নানা আলোচনা করি। সমাজে দিনকে দিন সাম্প্রদায়িক মনস্তত্ত্ব বৃদ্ধির যে চিত্র আমরা দেখছি, তাতে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, কোনো একটি পদ্ধতি অবলম্বন করে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। বাংলাদেশে বর্তমানে সাংস্কৃতিক বিপ্লব…

ফেসবুক : তথ্যের বিকৃতি ও বিক্রিত তথ্য

সম্প্রতি ফেসবুক নিয়ে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে। অবশ্য আলোচনাটি নতুন নয়। গত এক দশক ধরেই ফেসবুকসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি, গুজব নির্ভর ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়াতে সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রের নির্বাচন ও সামরিক বিষয়েও হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এগুলো যে কেবল অভিযোগ তা-ই নয়, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সমেত এগুলো একাধিকবার উঠে…

প্রতিদিনের দ্বিজাতিতত্ত্ব

প্রায় তিন বছর আগে আমার প্রিয় মানুষদের একজন শিল্পী-সংগ্রামী শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদারের একটি লেখা পড়েছিলাম তাঁর মোবাইলের ড্রাফট-বক্স থেকে। ‘প্রতিদিনের দ্বিজাতিতত্ত্ব’ কথাটি তাঁর সেই লেখা থেকেই নেয়া। পরবর্তীতে লেখাটি কোনো সংকলনে বেরিয়েছে কিনা জানি না, তবে অনলাইনে দেশভাগ ও দ্বিজাতিতত্ত্ব: একটি আবশ্যিক পুনঃপাঠ শিরোনামে লেখাটি পাওয়া যায়। শুভ দা তাঁর লেখায় ভারতের একজন নাগরিক হিশেবে…

ফেইসবুক অ্যালগরিদম ও কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ

গত দুই দশকেরও কম সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে যে সংখ্যক ব্যবহারকারী সক্রিয় হয়েছেন, ডিজিটাল দুনিয়ায় তা এক বিস্ময়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সব শ্রেণির মানুষকে কথা বলার বা মত প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে— এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। একই সঙ্গে তাদের নিজস্ব বিধি-বিধান আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যালগরিদম কোথাও না কোথাও মত প্রকাশের ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি…

বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো

চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধের হিসাব অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন। এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে কোনো একটি প্ল্যাটফর্মে ক্রমাগত সক্রিয় রাখার ইতিহাস মানব সভ্যতার ইতিহাসে আর নেই। হয়তো ডিজিটাল দুনিয়ায় ভবিষ্যতে এমন পরিসংখ্যান আরও তৈরি হবে। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত এ কথা নির্দি্বধায় বলা যায়, আজকের পৃথিবীতে এসব যোগাযোগমাধ্যম সামাজিক, রাজনৈতিক,…

রাজনৈতিক দলের রাজনীতি

বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর পরিস্থিতি ও ভূমিকা সম্পর্কে একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ঢাকা পোস্টে। গত ২৬ আগস্ট থেকে ০৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত এই বিশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া থেকে তাদের ভাঙন ও বর্তমান ক্রিয়াকলাপের বিশদ তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে মূর্ত হয়েছে রাজনীতির মাঠে তাদের সক্রিয়তার উপলক্ষ বা নিষ্ক্রিয়তার কারণ।…

আওয়ামী লীগ : বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল

আজ ২৩ জুন। উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাহাত্তরতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সাত দশকেরও অধিক সময় ধরে এই রাজনৈতিক দলের ঐতিহাসিক উত্থান-পতনের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম এবং স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও দেশভাগ-পূর্ব অখণ্ড ভারতের রাজনীতি ও জনমানসের প্রভাব-প্রতিক্রিয়া এই রাজনৈতিক দল গঠনের প্রেক্ষাপট নির্মাণ করেছে। ১৯০৫ সালের…

ছায়ারোদ্দুরের বাঙলাদেশ

২০০৪ সালের কোনো এক রৌদ্রদগ্ধ দুপুরের কথা মনে পড়ে। সম্ভবত সে বছরই আমার প্রিয় ব্যান্ড রেনেসাঁর নতুন একটি অ্যালবাম রিলিজ হলো একুশ শতকে রেনেসাঁ শিরোনামে। তখনও আমাদের ক্যাসেটে গান শোনার দিনগুলো শেষ হয়ে যায়নি। ওই অ্যালবামের একটি গান— সে সময়ে যে বাঙলাদেশের ছবিটা আমরা প্রতিদিন খবরের কাগজে দেখতাম— তার সঙ্গে কী অবলীলাক্রমে মিলে গিয়েছিল। ‘হে বাংলাদেশ/ তোমার…

সাইবার জিহাদ মোকাবেলায় বাঙলাদেশ

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত ওয়েবিনারের ধারণাপত্র বাঙলাদেশের রাজনীতিবিদ, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজ সকলেই আজ এই মর্মে একমত যে, ধর্মীয় উগ্রপন্থী সংগঠনগুলো গত কয়েক বছরে তাদের অপকর্মের পদ্ধতি পরিবর্তন করেছে। ধর্মকে ব্যবহার করে বাঙলাদেশের উগ্রবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীগুলো যে প্রকাশ্য সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলো, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কঠোর তৎপরতার কারণে তার অনেকটাই এখন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।…

রাজনৈতিক পাপের উৎস সন্ধানে

স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পাপটি ছিল ১৯৭৫ সালের পনেরোই আগস্ট। তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক কুনাট্যের সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে—তার ঠিক ৭৯ দিন পর, পঁচাত্তরের ৩ নভেম্বর—জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে এই কুনাট্যের প্রথম অঙ্কের সমাপ্তি ঘটে। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চরিত্রের যে স্খলন…

তরণী চলছে শুভ লক্ষ্যে

১৯৮১ সালের ১৭ মে। স্বাধীনতার এক দশক পূর্তির কয়েকদিন পর বাঙালিকে দ্বিতীয়বার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস নথিভুক্ত করতে হলো। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস ও ঘটনাবলীর সঙ্গে তার আত্মজা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস মিলিয়ে পড়লে আমাদের চোখের সামনে স্বাধীন বাংলাদেশের এক দশকের রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও উত্থান-পতনের…

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের রাজনীতি

সম্প্রতি কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল–জাজিরায় প্রচারিত একটি ডকুড্রামা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান ও তার পরিবারকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ডকুড্রামাতে প্রধানমন্ত্রীকেও যুক্ত করা হয়েছে নানাভাবে। কিন্তু ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ মূলধারার গণমাধ্যমেও আল–জাজিরার নির্মিত এই ডকুড্রামার নানা মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তির সমালোচনা হচ্ছে তথ্য-প্রমাণসহ। যদিও জাতীয় বা আন্তর্জাতিক যে কোনো গণমাধ্যমে প্রচারিত অনুষ্ঠানের কপিরাইট…

রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতা

বর্তমান সময়টি ঐতিহাসিকভাবেই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে আমরা উদযাপন করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ, অন্যদিকে বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে। এ সময়ের নানা নথিপত্র, রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ, খবরের কাগজের নানা লেখা নিঃসন্দেহে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য নানা গবেষণার মূল্যবান আকর হয়ে থাকবে। তার ফলাফল বা প্রতিক্রিয়া কী হবে তা জানি না, তবে এগুলো…

ব্যানারে ধর্ম, আড়ালে রাজনীতি

বাহাত্তরের সংবিধানে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। কারণ ২৩ বছরের পাকিস্তানি শাসনামলে এই ধর্মকে ব্যবহার করেই বাংলার মানুষের ওপর নির্মম শোষণ আর নির্যাতন চালিয়েছে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী। একাত্তরে বর্বরতম জেনোসাইড চালিয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আর তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসরা ধর্মের নামে এই জেনোসাইডকে সমর্থন জানিয়েছে। ধর্মের নামে রাজনীতি একটি জাতিকে যে কোথায় নামিয়ে আনতে…